ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ৩টি উপজেলার মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই আসনে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে গত ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির জেলা সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে রয়েছেন মোট ৫ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই করছেন—মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ প্রতীক) – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) – জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব প্রতীক) এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত ২০ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদকে ২৫৫ ভোটে পরাজিত করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় আজ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। ভোটারদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
এছাড়া এই উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নিবন্ধন করেছেন মোট ২৮৭ জন ভোটার (যার মধ্যে ২৪৯ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারী)।
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট সম্পন্ন করতে পুরো নির্বাচনী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটের ব্যবস্থাপনা প্রতি মুহূর্তের (মিনিটে মিনিটে) আপডেট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

