৫ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক, আন্দোলনে বন্ধ ১৫ কারখানা

0
৫ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক, আন্দোলনে বন্ধ ১৫ কারখানা

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলন, মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর থেকে টানা ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগে শ্রমিকরা পথে নামেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকার একাধিক কারখানার শত শত শ্রমিক এতে যোগ দেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয় এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।

দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় গাজীপুর থেকে বোর্ডঘর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়ে নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় আশপাশের অন্তত ১৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাময়িক ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে এবং বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।