‘মজুরি ৩০ হাজার টাকা চাই’: পোশাক শ্রমিকদের দ্বিতীয় দিনের অবরোধে স্তব্ধ মিরপুর, স্তব্ধ নগরী

0
‘মজুরি ৩০ হাজার টাকা চাই’: পোশাক শ্রমিকদের দ্বিতীয় দিনের অবরোধে স্তব্ধ মিরপুর, স্তব্ধ নগরী

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার একদফা দাবিতে রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মিরপুরে আবারও রাজপথে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। দ্বিতীয় দিনের মতো পোশাক কারখানার শত শত কর্মী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় পুরো মিরপুরজুড়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছে। এতে উত্তর ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ও দীর্ঘ যানজট, যার প্রভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী ও পথচারী।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মিরপুরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিতে শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে মিরপুর এলাকার চার প্রধান প্রবেশদ্বার ও সংযোগস্থলে অবস্থান নেন। অবরুদ্ধ প্রধান পয়েন্টগুলো হলো মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর-১২ নম্বর এলাকা, পল্লবীর প্রশিকা মোড়

সড়কে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকেরা অবিলম্বে তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে নানা ধরনের ব্যানার ও স্লোগান দিতে থাকেন। সড়ক জুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে প্রধান রাস্তা ছাড়াও অলিগলিতে আটকে পড়ে গণপরিবহন, অ্যাম্বুলেন্স ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সার্বিক অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি আন্দোলনস্থলে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবুল বাসার মোল্ল্যা জানান, বেতন স্কেল পুনর্বিন্যাসের দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষিপ্তভাবে মূল সড়কে চলে আসায় আশপাশের প্রতিটি রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ বিকল্প পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেও চাপ অতিরিক্ত হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বরে পোশাক শ্রমিকেরা শান্তিপূণভাবে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা কারখানার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভাঙচুর বা সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”

উল্লেখ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকেরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে মিরপুরের কয়েকটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে অবস্থান বজায় রেখেছেন।