
সুমন গাজীঃ ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গাজীপুর। শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলনের মুখে আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। ফলে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান এই যোগাযোগ ধমনীতে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরই বিভিন্ন দাবির পক্ষে একত্রিত হয়ে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন।
আন্দোলনের মুখে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ৮ থেকে ১০টি পোশাক কারখানায় আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক ও সফিপুরসহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পোশাক শ্রমিকেরা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও অসন্তোষ কমেনি। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিকেরা একই মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। রাতে সাময়িকভাবে সড়ক ছাড়লেও আজ সকালে পুনরায় তারা রাজপথে নেমে আসেন।
হঠাৎ মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজট। কর্মজীবী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী ও জরুরি সেবার যানবাহন আটকে পড়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন “আজ সকাল থেকেই শ্রমিকেরা আবারও মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন, যার ফলে এই পথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
বর্তমানে শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
