বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সাভারের আশুলিয়ায় দুর্বৃত্তরা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা।
পুলিশ জানায়, আশুলিয়ার সরকার মার্কেট এলাকায় নারী ও শিশু হাসপাতালের সামনে পার্কিং অবস্থায় থাকা আলিফ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসটির প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বাসে আগুন লাগার সময় ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন চালক। আগুন টের পেয়ে বের হতে গিয়ে তিনি আহত হন।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী সকাল ৯টার দিকে আগুনের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, ভোর পৌনে ৫টার দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে বাসে আগুন ধরিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে বাসের ভেতরের সবকিছু পুড়ে যায়।
বাসচালক সাত্তার বলেন, আমি গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ আগুন দেখে জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে নামি। নিচে নেমে দেখি চারজন লোক দুটি মোটরসাইকেলে দাঁড়িয়ে আছে, সবাই হেলমেট পরা। আমি চিৎকার শুরু করলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। বাস থেকে নামার সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাই।
বাসের মালিক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আমার একমাত্র উপার্জন ছিল এই বাসটি। কে বা কারা আমার এই ক্ষতি করল জানি না। আমি তাদের বিচার চাই। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ, যেন আমি ক্ষতিপূরণ পাই সেই ব্যবস্থা করা হয়।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী আরও জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। চালক ছাড়া অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ৭টা ১৮ মিনিটের দিকে উত্তরার জসীম উদ্দিন রোডে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকালে উত্তরার জসীম উদ্দিন রোডে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ইঞ্জিন ওভার হিটের কারণে এ আগুনের সূতপাত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
এর আগে গতরাতে বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভোগড়া বাইপাস পেয়ারা বাগান এলাকায় ভিআইপি পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভিআইপি পরিবহনের বাসটিতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে ভোর ৫টার দিকে শ্রীপুরে বেড়াইদের চালা এলাকায় দাড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বাসটির ইঞ্জিন ও সিট পুড়ে গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি বাসেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, এক রাতে পৃথক স্থানে তিন বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় বাস দুটি পুড়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া বাইপাসসংলগ্ন পেয়ারা বাগান এলাকায় ভিআইপি পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভিআইপি পরিবহনের বাসটিতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলের কাছেই ফায়ার সার্ভিসের একটি স্টেশন থাকলেও আগুন লাগার পর সদস্যরা সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেননি।
তবে মডার্ন ফায়ার স্টেশন সূত্র জানায়, আগুন লাগার খবর পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একসঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন দেয়ার সময় বাসে কোনো লোক ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে হয়তো বাসটি সড়কের পাশে পার্ক করে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে, কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি বাসেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে বাসের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্যোতি ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একজন মিস্ত্রি বাসের নিচে শুয়ে মেরামতের কাজ করছিলেন। ঠিক তখনই একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে বাসের পাশে থামেন এবং মুহূর্তের মধ্যে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুনে বাসটির আসন ও কিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।

