বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়েকে খুনের ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। চুরির উদ্দেশ্যেই মোহম্মদপুরের ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় অভিযুক্ত আয়েশা। তার চুরি ধরে ফেলাই কাল হয়েছে মা-মেয়ের।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আয়েশা চুরির উদ্দেশ্যেই মোহম্মদপুরের ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয়। চুরি ধরে ফেলায় প্রথমে মাকে হত্যা করে। পরে মেয়ে দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করে। হত্যার পর বাসায় চুরি করে স্কুল ড্রেস পরে পালিয়ে যান আয়েশা।
ডিএমপি জানিয়েছে, দুই হাজার টাকা চুরি করে ধরা পড়ায় গৃহকর্মী আয়েশার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় গৃহকর্তী লায়লা ফিরোজের।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পর দিন পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে ছুরি নিয়ে এসে লায়লাকে হত্যা করে। এসময় মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ ঘুমে ছিল। গৃহকর্মীর সঙ্গে মায়ের ধস্তাধস্তিতে তার ঘুম ভেঙে যায়। সে ইন্টারকমে দারোয়ানকে ঘটনা জানাতে গেলে তাকেও হত্যা করেন আয়েশা।
এ ঘটনায় আয়েশার স্বামী রাব্বীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, স্বামী রাব্বী হত্যাকাণ্ডের পরে আয়েশাকে ঢাকা থেকে পালাতে সাহায্য করে।
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম।

