বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৫) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক মিলন মল্লিক। স্রেফ প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং ‘হোটেল মালিকের মেয়ে হয়ে কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না’—এমন মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে লিলিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে সে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতকঃ
হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে চলে যাওয়া মিলন মল্লিককে রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬-এর একটি যৌথ দল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে মিলনের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘মর্যাদার লড়াই’ঃ
র্যাব জানায়, নিহত লিলিদের পারিবারিক হোটেলের কর্মচারী ছিল মিলন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও মিলন মনে মনে লিলিকে নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা করছিল। গত ১০ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুরে লিলিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন তাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মিলন জানায়, লিলি তার প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সে একজন হোটেল কর্মচারীর সঙ্গে ঘর বাঁধতে পারে না। লিলি তাকে ধমক দিয়ে বলেছিল, “বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে এসো না।” নিজের সামাজিক অবস্থান ও প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে এমন অপমান সহ্য করতে না পেরেই হাতের কাছে থাকা বঁটি ও রশি নিয়ে লিলির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মিলন।
গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’র বাসা থেকে লিলির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বোন শোভা জিম থেকে ফিরে দেখেন, ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো। একটি বড় পাতিলের নিচে লিলিকে কুঁকড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। প্রথমে মাথায় আঘাত মনে করলেও পরে দেখা যায়, লিলির গলায় রশি প্যাঁচানো এবং বঁটি দিয়ে গলা কাটা হয়েছে।
নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার সজীব মিয়ার মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে দক্ষিণ বনশ্রীতে ভাড়া বাসায় থাকত। ঘটনার সময় তার বাবা-মা জমিজমা সংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগকেই কাজে লাগায় ঘাতক মিলন।
র্যাব-৩ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত মিলনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারো ইন্ধন ছিল কি না বা অন্য কোনো মোটিভ আছে কি না, তা অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

