মুলাদী প্রতিনিধি: বরিশালে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে ব্যবসায়ীকে ডেকে মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সার্কেল-৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। এঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী তুষার কান্তি হালদার ও অপু ফকির বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মাসোহারা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের বিভাগীয় কর্মকর্তা সুদীপ্ত।
মুলাদী বন্দরের শশী গৌরনদী মিস্টান্ন ভান্ডারের মালিক তুষার কান্তি হালদার জানান, গত ৫ জানুয়ারি সোমবার বিকেল ৫টার দিকে রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খানসহ বরিশাল ভ্যাট অফিসের ৪-৫জন তার দোকানে যান। কর্মকর্তা ব্যবসায়ীকে ২/১ দিনের মধ্যে বরিশাল ভ্যাট অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। পরের দিন ৬ জানুয়ারি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ফোন দিয়ে তুষার হালদারকে অফিসে যাওয়ার তাগিদ দেন। গত ১১ জানুয়ারি তুষার হালদার বরিশাল ভ্যাট, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে গেলে তাকে দিয়ে বিকাশে ৩হাজার টাকা ভ্যাট পরিশোধ করান কর্মকর্তা। পরে তার কাছ থেকে ‘অফিস খরচ’ বাবদ আরও ২ হাজার টাকা নেন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। এছাড়া প্রতিমাসে অফিসে ২ হাজার টাকা না দেওয়া হলে মামলা ও জরিমানা করার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তুষার হালদার।
মুলাদী সিনেমা হল সংলগ্ন ঢাকা বিরিয়ানী এন্ড কাচ্চি ঘরের ব্যবসায়ী অপু ফকির অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারি রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তার দোকানে গিয়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আয়করের কাগজপত্র দেখতো চান। কাগজপত্র দেখালেও অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দাবি ঠিকমতে ভ্যাট ও আয়কর দেওয়া হয়নি। তারা প্রতিমাসে বরিশাল ভ্যাট অফিসে যোগাযোগ করে ৫হাজার টাকা ‘মাসোহারা’ দিতে বলেন। তাই হয়রানি থেকে বাঁচতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গত ৫ জানুয়ারি মুলাদীতে ইটভাটায় অভিযান করা হয়েছিলো। ফেরার পথে শশী গৌরনদী মিষ্টান্ন ও ঢাকা বিরিয়ানী হাউজের কাছে ভ্যাট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং তাদের সচেতন করা হয়েছে। কেউ তাদের কাছে মাসোহারা কিংবা টাকা দাবি করেনি। ব্যবসায়ীরা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ভ্যাট পরিশোধের বিষয়ে সচেতন করতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছিলো। একজন ব্যবসায়ী অফিসে উপস্থিত হয়ে ভ্যাট পরিশোধ করেছেন। কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি কিংবা মাসোহারা চাওয়া হয়নি। কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে কিছু বলার নেই।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তা সুদীপ্ত জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

