বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে ফাঁদ পেতে (হানিট্র্যাপ) অর্থ ছিনতাই ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে এক নারী সদস্যসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকার ‘হোটেল ইম্পেরিয়াল’-এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা এবং তার সহযোগী সান্টু হাওলাদার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। একই এলাকার হওয়ায় এই ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অন্যতম সদস্য আব্দুর রহমানের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে গত শনিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জরুরি কাজের কথা বলে সিরাজুলকে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় ডেকে আনেন আব্দুর রহমান।
রাত ৯টার দিকে সিরাজুল সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল চক্রের ৮-১০ জন সদস্য।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের অভিযোগে বলেন, কক্ষে প্রবেশের পর নারী সদস্য ম্যালাইসা তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর চক্রের অন্য সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক খাটে বসিয়ে দেয়। এরপর তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ভিডিও ধারণের হুমকি দেওয়া হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পকেটে থাকা ১,২০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আরও ১৩,০০০ টাকা দাবি করা হয়।
বিপদ টের পেয়ে সিরাজুল ইসলাম কৌশলে হিজবুল্লাহ সম্রাট নামের এক ব্যক্তিকে বিষয়টি জানান। সম্রাট তাৎক্ষণিক কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে রাতেই হোটেল ইম্পেরিয়ালে ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ম্যালাইসা ও সান্টু গ্রেপ্তার হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল মালিক, ম্যানেজার এবং চক্রের মূল হোতা আব্দুর রহমানসহ অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এই ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (রবিবার) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক হোটেল মালিক, ম্যানেজার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

