তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএর নামে অতিরিক্ত টোল,মিলছে না রশিদ

0
তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএর নামে অতিরিক্ত টোল,মিলছে না রশিদ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী নৌযান থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নামে রশিদবিহীন অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের দাবি,সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে প্রতিটি নৌকা থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা দেশের একটি বড় অংশের চাহিদা পূরণ করে। এসব কয়লা বড় বাল্কহেড ও স্টিলের নৌযানে করে পাটলাই নদী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। বিকল্প কোনো পরিবহন পথ না থাকায় এই নদীপথই হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন এবং নৌযান মালিক ও নৌশ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
অভিযোগ রয়েছে,এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের পাটলাই নদীর ডাম্পের বাজার ও শ্রীপুর বাজার এলাকায় প্রতিটি পণ্যবাহী নৌযান থেকে বিআইডব্লিউটিএর নামে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ওই টোল আদায়ের বিপরীতে কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা।
এম শহীদ মিরান শাহ নামের এক নৌকার চালক বলেন, “আমার নৌকায় ১৮০ টন কয়লা ছিল। ৫৭ টাকা টন হারে বিআইডব্লিউটিএর নামে আমার কাছ থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। আমি ৫০০ টাকা কম দিয়েছি। কিন্তু আমাকে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
সৈয়দ মিরান শাহ নৌ পরিবহনের এক নৌচালক বলেন, “আমার নৌকায় ২১০ টন কয়লা ছিল। বিআইডব্লিউটিএর নামে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওই টাকার কোনো রশিদ আমাকে দেওয়া হয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরেক নৌকার মাঝি। তিনি জানান, তার নৌকায় ১১৮ টন কয়লা ছিল। বিআইডব্লিউটিএর নামে তার কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও এর বিপরীতে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
নৌযান শ্রমিকদের অভিযোগ,টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক সময় নৌকা আটকে রাখা হয় এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এতে নৌপথে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, রশিদবিহীন এই অতিরিক্ত টোল আদায় শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি নৌযান শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপরও আঘাত হানছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএর টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা আল আমিন। তিনি বলেন,আমরা সরকার নির্ধারিত হারে টোল আদায় করছি। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। রশিদ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,আমরা রশিদ দিয়ে থাকি। কেউ কেউ নিজ ইচ্ছায় রশিদ নেন না।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমার কাছেও একাধিক অভিযোগ এসেছে। আমি ইতোমধ্যে আমার অবস্থান থেকে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।