হাদি হত্যা মামলা: ‘আমি নির্দোষ, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’— রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলো মূল আসামি ফয়সালকে

0
হাদি হত্যা মামলা: 'আমি নির্দোষ, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে'— রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলো মূল আসামি ফয়সালকে

আজকের ডেস্কঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে আজ রবিবার (২২ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিশেষ আদালতে তোলা হয়েছে।

আদালত চত্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফয়সাল করিম মাসুদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।”

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ করার সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার প্রায় তিন মাস পর, গত ৭ মার্চ রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফয়সাল (৩৭) এবং আলমগীরকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। গত ৮ মার্চ তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ দাবি করেছিল যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর হাদি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে গত কয়েক মাস ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

তবে আজ আদালতে তোলার সময় ফয়সালের মুখে শোনা গেল ভিন্ন সুর। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি নিশ্চুপ থাকলেও, আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে নিজের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

ফয়সাল করিম মাসুদ (পটুয়াখালী)। আলমগীর শেখ (বাসা: ঢাকা)। ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ (আহত); ১৮ ডিসেম্বর (মৃত্যু)। ইতিপূর্বে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যার ভিত্তিতেই এই দুইজনের নাম সামনে আসে।

আজকের শুনানি শেষে আদালত তাদের পরবর্তী জেল হেফাজত বা রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা কার আশ্রয়ে পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে ছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক যোগসূত্র আছে কি না।