
সাভার প্রতিনিধিঃ ঢাকার সাভারে এক নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধভাবে শারীরিক নিগ্রহ (Sexual Assault) ও প্রতারণার অভিযোগে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাৎ ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেনের সঙ্গে ওই নৃত্যশিল্পীর প্রায় ১৭ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের একপর্যায়ে বিপ্লব তাকে বিয়ে করার শর্তে ভারতে গিয়ে জেন্ডার রিঅ্যাসাইনমেন্ট বা লিঙ্গ পরিবর্তনের (Gender Transition) জন্য প্ররোচিত করেন। বিপ্লবের দেওয়া ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ভুক্তভোগী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিজেকে রূপান্তরিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিপ্লব।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, বিপ্লব ইতিমধ্যে অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। পাওনা টাকা ফেরত ও প্রতিশ্রুতির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে শুরু হয় চরম শত্রুতা (Hostility)।
গত ৬ মে রাতে সাভার পৌর এলাকার ভাড়া বাসায় বিপ্লব হোসেন ও তার সহযোগী শান্ত পাণ্ড জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তারা ভুক্তভোগীকে কেবল শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতই করেননি, বরং হত্যার হুমকি দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে বলাৎকার (Gang Sodomy) করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাভার মডেল থানায় বিপ্লব ও শান্তসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির (Information Technology) সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে রাজশাহীর বাঘা থেকে প্রধান আসামি বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অমানবিক। আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ (Remand Prayer) আদালতে পাঠিয়েছি। অপরাধের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং একজন মানুষের আবেগ ও শারীরিক সত্তাকে পুঁজি করে চরম প্রবঞ্চনার (Deception) এক বিরল দৃষ্টান্ত। ভুক্তভোগী বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় বিচার দাবি করছেন।
