জয়নাল আবেদীন: বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ অতপর মামলায় দুইমাস পর আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসনামের ওই ধর্ষককে অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে । আর এই ঘটনা বিড়ি শিল্পনগরী রংপুরের হারাগাছে।
রংপুর মেট্টোপলিটন হারাগাছ থানার দারোগা রুহুল আমীন জবাবদিহিকে জানায় কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের সারাই জাগরণ পাড়ার তারিকুল ই্সলামের ছেলে উৎস বিবাহিত ।এদিকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে ১৮ বছরের এক কিশোরী ছাত্রীকে হারাগাছ থেকে রংপুরে কলেজে যাওয়া- আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন। মেয়েটি প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে আজমাইন ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসআপে কথাকপনে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। গত বছরের ২ ডিসেম্বর আজমাইন মেয়েটিকে বিয়ের করার কথা বলে রংপুরে আদালতের পাশে লেকের পাড়ে নিয়ে গিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে জানায় তাদের দুইজনের বিয়ে হয়েছে। পরে ওইদিন হারাগাছ ধুমগড়া এলাকায় জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী হিসেবে সারারাত ধর্ষণ করে আজমাইন। এরপর বিভিন্ন স্থানে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
এদিকে মেয়েটির বিয়ের কাবিন নামার কাগজ দেখতে চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা করে আজমাইন। অবশেষে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ২৪ এপ্রিল মেয়েটি সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যায়। সেখানে আজমাইন মেয়েটিকে জানান, তিনি বিবাহিত, মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রতারণা করে মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে যৌনমিলন করেছে বলে মেয়েটিকে জানায়। মেয়েটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদ করে। এ সময় আজমাইন মেয়েটিকে জানান টাকা নিয়ে ঘটনা যেন আর কাউকে না বলে এবং এ বিষয়ে তাকে বিরক্ত করলে গোপন ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর গত ৬ মে মেয়েটি বাদী হয়ে রংপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা হয়। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। কিন্তু আজমাইন আত্মগোপনে চলে যায়। প্রায় দুইমাস চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সোমবার র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকা বিমানবন্দর থানাধীন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে হারাগাছ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হলে বিঞ্জ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন ।

