‘বিস্কুটের প্রলোভনে পাঁচ বছরের শিশুকে ঘরে তুলে পাশবিক নির্যাতন’: তাহিরপুরের পিশাচ রাকিব গ্রেপ্তার

0
‘বিস্কুটের প্রলোভনে পাঁচ বছরের শিশুকে ঘরে তুলে পাশবিক নির্যাতন’: তাহিরপুরের পিশাচ রাকিব গ্রেপ্তার

তাহিরপুর প্রতিনিধি: খেলার ছলে মিষ্টি হাসির প্রলোভন যে এত বড় নির্মমতা ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি অবুঝ শিশুটি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাত্র পাঁচ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন ঘরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রাকিব মিয়া (১৬) নামের এক লম্পট কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ও জনক্ষোভের সৃষ্টি হলে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় সীমান্ত এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাদাঘাট ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বিন্নাকুলি ফেরিঘাট সংলগ্ন সীমান্ত রোড এলাকা থেকে পালানোর সময় তাকে হ্যান্ডকাফ পরায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত রাকিব তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বাদাঘাট সীমান্তসংলগ্ন রহমতপুর গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আসরের নামাজের পর বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল শিশুটি। এ সময় নির্জনতার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী লম্পট রাকিব বিস্কুট ও লজেন্স কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত খালি ঘরে নিয়ে যায়। ভেতরে নিয়ে ভেজানো দরজায় ছিটকিনি তুলে দিয়ে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুটির আত্ম চিৎকার ও প্রচণ্ড কান্নাকাটির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত রাকিব দ্রুত সটকে পড়ে।

গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি ও সার্জারি বিভাগে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত না হলেও চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিশুটির কান্নারত চাচা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেয়েটির শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সে ভীষণ ট্রমায় রয়েছে; সামান্য শব্দ হলেই চোখ মেলে আতঙ্কে শরীর কাঁপিয়ে আঁতকে উঠছে। আমরা খবর পেয়ে রাতেই থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি এবং চিকিৎসকদের সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। আমরা এই পৈশাচিক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

ঘটনার পর থেকে লম্পট রাকিব আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযান নামাই এবং আসামিকে বিন্নাকুলি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কড়া পাহারায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে।”