আইফোনের জন্য শিক্ষকের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা: ৪ ঘাতক গ্রেপ্তার, ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ

0
আইফোনের জন্য শিক্ষকের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা: ৪ ঘাতক গ্রেপ্তার, ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে লালমাই পাহাড়ের নির্জন বনে ডেকে নিয়ে যাওয়া, অতপর আইফোন ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় সহপাঠী তুল্য কিশোরদের লাঠির আঘাতে নির্মমভাবে খুন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের शिक्षকের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩)। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন ও মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের পর এবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করতে যাচ্ছে পুলিশ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৯) ও সিয়ামকে (১৫) অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে এই রিমান্ড চাওয়া হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানান, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল আইফোন ছিনতাই-ই একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনো নেপথ্য কারণ বা প্রভাবশালী চক্রের মদদ ছিল তা রিমান্ডে এনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশের তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ঠিক ২টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে আড্ডার ছলে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে নিয়ে যায় মূল পরিকল্পনাকারী ড্রপআউট ছাত্র তুহিন। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্জন বনাঞ্চলে তুহিন ও তার সঙ্গীরা অপ্রতিমের ব্যবহৃত দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অপ্রতিম জীবন বাজি রেখে বাধা দিলে আসামিরা শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং মরদেহ বনেই ফেলে আইফোন নিয়ে সটকে পড়ে।

মরদেহ উদ্ধারের আগেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে আটক করে। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তুহিন স্বীকার করে যে, ছিনতাই করা ফোনটি সে নিজ বাসার তোশকের নিচে লুকিয়ে রেখেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ফোনটি জব্দ করা হয় এবং তুহিনের স্বীকারোক্তিতেই একে একে ফাহাদ, কামরুল ও সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বয়স ও শিক্ষার স্তরে পার্থক্য থাকলেও স্থানীয়ভাবে নিয়মিত আড্ডার সূত্রে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা হল সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র হলেও ২০২৫ সালে অকৃতকার্য হয়ে ড্রপআউট হয়। মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। মো. কামরুল হাসান (১৯) ফাহাদের সহপাঠী। সিয়াম (১৫) আব্দুল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির জন্য সুপারিশ করা হবে।