মিলেছে লাশ, মেলেনি কলির দুই পা- ৭ দিন পর ঘটনাস্থলে ফের পুলিশ

0
মিলেছে লাশ, মেলেনি কলির দুই পা- ৭ দিন পর ঘটনাস্থলে ফের পুলিশ

ঈশ্বরদী প্রতিবেদক: পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় লাশ উদ্ধারের সাত দিন পর আবারও ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলির মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশের ডোবায় তার বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের সন্ধানে তল্লাশি চালায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবির ওসি আব্দুস সালাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায়ের নেতৃত্বে একটি দল কুলোনিয়া গ্রামের ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় লাশ উদ্ধারের স্থান, আশপাশের ডোবা ও বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজাখুঁজি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কলির খণ্ডিত মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তার দুই পা পাওয়া যায়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দুই পায়ের সন্ধানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ফের তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের তল্লাশিতেও তার দুই পায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, ‘দাফনের সময়ও মেয়েটির দুটি পা ছিল না। সেগুলো কোথায় গেল, তা এখনো জানা যায়নি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় বলেন, ‘স্থানীয়রা পা খুঁজে দেখতে চেয়েছিল। এ কারণে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি ঘরে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে আসামিরা পরিবারের সঙ্গে কলিকে খোঁজার পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ইয়াছিন আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।