প্রেমের ফাঁদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত চক্র ঈশ্বরদীতে দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

0
প্রেমের ফাঁদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত চক্র ঈশ্বরদীতে দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভাড়া বাসায় আটকে এক মুদি ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে ঈশ্বরদীতে দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুরের বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘার চণ্ডিপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ও দোকানের বকেয়া লেনদেন ছিল। এর মধ্যে মুক্তি খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে মুক্তির কথায় ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার ‘মমতাজ ভিলা’র তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে মুক্তি ও বৃষ্টি তাঁকে নাশতা দেন। কিছুক্ষণ পর সিরাজুলসহ আরও কয়েকজন বাসায় আসেন।

এ সময় মুক্তির সঙ্গে জামিরুলের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে ছবি ও ভিডিও তাঁর স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাঁকে মারধর ও একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাণনাশের ভয়ে জামিরুল স্ত্রীকে ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই বন্ধু সাত লাখ টাকা নিয়ে ওই বাসায় গেলে সিরাজুলের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর জামিরুল ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।