
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বহুল আলোচিত প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় অবশেষে চক্রের অন্যতম মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজৈর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএআরসির মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়েও তিনি প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সোহাগ ফকিরের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণায় মনে করা হচ্ছে, এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছিল। ডিভাইসগুলো জব্দ করে সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী যখন পরীক্ষার হলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাটি স্থগিত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিনই (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ০৭) দায়ের করা হয়। মামলাটি পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত সংশোধনসহ)-এর ৪, ৫ ও ৯(ক) ধারায় রজু করা হয়। পরবর্তীতে ছায়া তদন্তে নেমে সিআইডির সাইবার টিম এই জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পায়।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ফকিরকে মাদারীপুর থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে ঢাকায় সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, “এটি কেবল একজন ব্যক্তির কাজ হতে পারে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহাগ ফকির ছাড়া এই চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বা কোনো ডিজিটাল সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে, তা জানতে তাকে আদালতে সোপর্দ করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”
একইসঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উৎস এবং এর বিনিময়ে কত টাকা লেনদেন হয়েছে—তা উন্মোচনে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
