ভরা মৌসুমেও স্বস্তি নেই বাজারে: চাল-ডাল-মাছ ও মাংসের দামে চড়া

0
ভরা মৌসুমেও স্বস্তি নেই বাজারে: চাল-ডাল-মাছ ও মাংসের দামে চড়া

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ নতুন বছরের শুরুতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে স্বস্তির পরিবর্তে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বেগুন, করলা ও কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চিনি, ডাল, মাছ ও মাংসের দাম। আমন ধানের ভরা মৌসুমেও চালের চড়া মূল্য সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাতিরপুল বাজার ঘুরে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে শীতকালীন সবজির উপস্থিতি বাড়লেও দাম কমার লক্ষণ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বেগুন ৮০-১২০ টাকা, টমেটো ৮০-১১০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ও পটোল ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম ঠেকেছে ১২০-১৬০ টাকায়।

ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০-৫০ টাকা, মুলার কেজি ৩০-৪০ টাকা এবং শিম ৪০-৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নতুন আলু ২৫-৩০ টাকা ও গাজর ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমদানির অনুমতি মেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০-৭০ টাকায় নামলেও পুরোনো পেঁয়াজ এখনো ১২০ টাকার নিচে মিলছে না। অথচ মাসখানেক আগে পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছিল।

নতুন ধান বাজারে আসার পরও চালের দাম না কমায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। খুচরা বাজারে গুটি স্বর্ণা (মোটা চাল) ৫০-৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৮-৬০ টাকা এবং মিনিকেট ৭০-৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, চিকন মসুর ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমিষের বাজারেও অস্বস্তি চরমে। গত সপ্তাহে বাড়তে থাকা গরুর মাংসের দাম বর্তমানে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২৫০ টাকায় স্থির হয়েছে। মাছের বাজারে চাষের মাছের দামও এখন নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে।

পাঙাশ ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং সিলভার কার্প ২৪০ টাকা কেজি। বড় রুই বা কাতল ৫০০-৫৫০ টাকা এবং ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

স্বস্তির খবর কেবল ডিম ও মুরগির বাজারে। ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা এবং লাল ডিম ১২০ টাকা ডজন দরে স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারে আসা করিম খান বলেন, “বছরের শুরুতে আয় বাড়ার খবর নেই, অথচ জিনিসপত্রের দাম একবার বাড়লে আর কমে না। এখন না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিজন না হওয়ায় পটোল ও ঢ্যাঁড়সের দাম বেশি। অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বাড়তি। মাছ বিক্রেতা শামীম গাজী জানান, দাম বেশি হওয়ায় বাজারে ক্রেতা সমাগম অনেক কম, ফলে বিক্রিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।