ইফতারে তৃপ্তি থাকলেও বাজারে অস্বস্তি: মাছ-মাংসের দামে সাধারণ ক্রেতার নাভিশ্বাস

0
ইফতারে তৃপ্তি থাকলেও বাজারে অস্বস্তি: মাছ-মাংসের দামে সাধারণ ক্রেতার নাভিশ্বাস

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ পবিত্র রমজানের সংযমের আবহে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে বইছে উল্টো হাওয়া। সিয়াম সাধনার এই মাসে যেখানে পণ্যের দাম সাধারণের নাগালে থাকার কথা, সেখানে সপ্তাহান্তের ব্যবধানে মাছ ও মাংসের বাজার যেন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মধুবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সিন্ডিকেট আর পাইকারি দরের দোহাই দিয়ে বাড়ানো হয়েছে প্রতিটি আমিষ পণ্যের দাম।

এক সময় যা ‘গরিবের মাছ’ বলে পরিচিত ছিল, সেই পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াও এখন মধ্যবিত্তের আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

চাষের মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল): কেজিতে ১০০-১৫০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

সাধারণের মাছ (পাঙ্গাস, তেলাপিয়া): ৩০০ টাকার নিচে এখন আর কোনো মাছ মিলছে না, যা গত সপ্তাহেও অনেক কম ছিল।

বিলাসবহুল ও দেশি মাছ: আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়, আর পাবদা বা বোয়ালের মতো দেশি মাছের কেজি ছুঁয়েছে ১,৫০০ টাকা।

মাছের বাজারের উত্তাপ ছড়িয়েছে মাংসের দোকানেও। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে পকেট খালি হচ্ছে ক্রেতাদের। গরুর মাংস: মানভেদে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস: প্রতি কেজি ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়ার মূলে রয়েছে পাইকারি বাজারের অস্থিরতা। রামপুরার বিক্রেতা সবুর মিয়ার ভাষ্যমতে, “পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনতে হচ্ছে, যার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।” মধুবাগের বিক্রেতা করিম উদ্দিন যুক্ত করেন পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচের বোঝা।

অন্যদিকে, ক্রেতাদের চোখে এটি স্রেফ ‘রমজান সিন্ডিকেট’। আজগর মিয়া ও জসিম উদ্দিনের মতো সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রোজা শুরুর সাথে সাথে দাম বাড়ানো হয়েছে। তাদের মতে, বাজার তদারকিতে প্রশাসনের শিথিলতাই ব্যবসায়ীদের এই সাহস দিচ্ছে।

রমজানে আমিষের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা দৃশ্যমান না হওয়ায় খুচরা বাজারে যে যার মতো দাম হাঁকাচ্ছে। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক হাত বদল হওয়ায় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে এখন ৩৫০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।