
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক মুখরোচক স্লোগান নয়—বরং রপ্তানি বৃদ্ধিকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে চলতি দশকের মধ্যেই দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার এক বাস্তবসম্মত জাতীয় পরিকল্পনা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে চট্টগ্রামস্থ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)’-এর আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সাথে ১০০ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের (প্রায় ১.০০৪ বিলিয়ন ডলার) ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রূপকল্প ২০৩৪ অর্জনে শিল্পের বৈচিত্র্যায়নের ওপর জোর দেন। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রবৃদ্ধির প্রথম পর্যায় সফলভাবে নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরবর্তী ধাপের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হবে ইলেকট্রনিক্স, ওষুধশিল্প (ফার্মাসিউটিক্যালস), হালকা প্রকৌশল (লাইটিং অ্যান্ড লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ শিল্প’ (Green Industry)।
লক্ষ্য শুধুই নতুন কলকারখানা বা চাকরি সৃষ্টি নয়, বরং শ্রমিকদের সামাজিক মান ও মর্যাদা রক্ষা করে এমন টেকসই কাজের সুযোগ তৈরি করা। সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর পর এবার জাতীয় পর্যায়ে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশের শক্তি-নিরাপত্তা খাত বহুগুণে শক্তিশালী হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান বিভিন্ন সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, খাদ্য ও শক্তি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঋণ নেওয়ার উচ্চ ব্যয়ের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সংকট এককভাবে সামাল দেওয়া অসম্ভব, তাই শক্তিশালী অংশীদারত্ব এখন সবচেয়ে জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের নেতৃত্বে গঠিত ‘ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ)’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান, বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলো যেন আন্তর্জাতিক চাপ কাটিয়ে উঠতে এই ফান্ড থেকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে বেশি পরিমাণে সাহায্য পায়, সেই প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. আল জাসের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ড. আল জাসের পুনরায় আইএসডিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সহযোগিতা নিছক অর্থায়ন নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অংশ হিসেবে পারস্পরিক আস্থা, সংহতি ও যৌথ সমৃদ্ধির প্রতীক। ঢাকা ও আইএসডিবির আঞ্চলিক কেন্দ্র একযোগে কাজ করে আরও উদ্ভাবনী এবং দেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্প চিহ্নিত করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান ও আইএসডিবির ডিরেক্টর জেনারেল আনাসি আইসামির মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
