চবি প্রতিনিধিঃ অনেক খুঁজেও ভোটদানে অমোচনীয় কালি ‘না মেলায়’ যে কালি পাওয়া গেছে, তাই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। তাতে ভোটার পরিচয় নিশ্চিতকরণে ‘কোনো সমস্যা হবে না’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক।
বুধবার ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে ছাত্রদল ও দ্রোহ পর্ষদসহ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটারদের হাতে ব্যবহৃত কালি ‘মুছে যাচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “একটা সীমাবদ্ধতা আমাদের তৈরি হয়েছে। এটা নিয়ে বিভিন্ন কথা আলোচনা অন্য জায়গায় হওয়ার আগে আমি মনে করেছি আপনাদের কাছে আমার ব্রিফ করা উচিত। জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে আরম্ভ করে চকবাজারের দোকান পর্যন্ত আমরা প্রত্যেকটা জায়গায় খুঁজে বেড়াইছি, যে একটা অমোচনীয় কালি পাওয়া যায় কি না।
“যে অমোচনীয় কালি উনারা ব্যবহার করেন সেটা প্রতি বছর নির্বাচনের আগে উনারা জার্মানি থেকে ইমপোর্ট করেন। এবং নির্বাচন শেষে বাকি অমচোনীয় কালি উনারা ডেসট্রয় করতে হয়। এটা হলো নির্বাচন প্রটোকল। সুতরাং এই কালি অন্য কোথাও পাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগরে একই সমস্যা হয়েছে। আমরাও অনেকটা দায়সারা গোছের একটা কালি আমরা দিয়েছি।”
ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ভোট দিয়ে প্রকৌশল অনুষদের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “প্রশাসন আরও ভালো কালির ব্যবস্থা করতে পারত। যেহেতু বাইরে সবাই ঘুরবে, কে ভোট দিয়েছে, কে না দিয়েছে সেটা তো আর খাতা দেখে চিহ্নিত করা সম্ভব না।
“আমরা তাদের আঙুল দেখলে বুঝতে পারতাম। কিন্তু, যেহেতু আঙুলের কালি মুছে যাচ্ছে, এটা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।”
তৌফিক মনে করছেন এ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের ত্বড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কালি মুছে যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথায়, “আমাদের শিক্ষিত সমাজের জন্য এটা খুব বেশি শোভনীয়ও নয় বলে মনে করি। আমরা একজনের ভোট আরেকজনে দেওয়া সুযোগ নেই। এটা আমাদের জাতীয় অক্ষমতা আমরা আমাদের দেশে এর থেকে ভালো কালি আর পাই নাই। আমরা যা পেয়েছি তাই ব্যবহার করছি।”
যেখানে কালি থাকবে না সেখানেও ‘কোন সমস্যা হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যেখানে কালি থাকবে না সেখানেও ভোট চলবে। কারণ ভোটের আইডেনটিটি হল ভোটার আইডি কার্ড এবং তার ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা।
“ভালো নির্বাচনের জন্য প্রিকশনারি মেজার সব আমরা নিয়েছি। যে ব্যর্থতা সেটা আমাদের ব্যর্থতা নয়, সামগ্রিক রিয়েলিটি।” মনির উদ্দিন বলেন, “আমরা আগে নিশ্চিত করেছি যে আমাদের ভোটারদের পরিচিতি হলো তাদের আইডি নম্বর এবং ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা। পোলিং এজেন্টদের কর্তব্য যারাই ভোটকেন্দ্রে ঢুকবে তাদের ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা দেখে নিশ্চিত করবে, হি ইজ দ্যা জেনুইন ভোটার।
“তাই অমোচনীয় কালিটা এটা এখন আর আমাদের জন্য ম্যান্ডেটরি রইল না।”
সাক্ষরহীন ১২ ব্যালট: আইটি ফ্যাকল্টিতে ব্যালট বক্সে সাক্ষর ছাড়া ১২টি ব্যালট পাওয়ার অভিযোগ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ওখানকার রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন, উনি শুরুতে যে ব্যালট দিয়েছেন ওই ব্যালটে সাইন করেন নাই।
“আমি এখন সিদ্ধান্ত দিয়েছি, সেটা হচ্ছে একটা রেজল্যুশন করা যে এই বাক্সগুলোর মধ্যে ১২টা ভোট আছে যেটার মধ্যে সাক্ষর নাই। সেই রেজল্যুশনে পোলিং, রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং অফিসার সেখানে যারা আছেন সবাই সাক্ষর করবেন। এবং ওই বাক্সগুলো যখন আমরা যাচাই করব সেখানে ১২টা ভোট সাক্ষর ছাড়া আছে সেটা জানা থাকলে আর কনফিউশনের জায়গা থাকবে না।”
ভোটগ্রহণ কতক্ষণ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, “ধীর গতিতে হোক আর যাই হোক ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে যদি ভোটার থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ভোট নিতে হয় ততক্ষণ পর্যন্ত ভোটগ্রহল হবে।
৩০ মিনিট দেরিতে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা লেইট হয় নাই। অনেক জায়গাতে শুরু হয়েছে। কোন কোন জায়গাতে লেইট হয়েছে। আপনারা জানেন প্রস্তুতি, পরিবহনসহ অনেক কিছু আছে।”
বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা: ক্যাম্পাসে ভোটের দিন বহিরাগত প্রবেশের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী এবং ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী।
বহিরাগত বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, “আমরা বহিরাগত বলব না। যারা ভোট পর্যবেক্ষণ করবে তাদের জন্য আমরা কিছু কার্ড দিয়েছি। বাকিরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যারা বৈধ কার্ডসহ ঢুকেছে।
“এখন এর বাইরে যদি কিছু হয়, আমাদের প্রদত্ত কার্ড ও আইডি কার্ড ছাড়া যদি কেউ থাকে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিব। এখনো সেরকম কোন আইডেনটিফাইড মেসেজ আসেনি।”
আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে জীবনে প্রথম একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হওয়া তাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
এবারের চাকসু নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলিয়ে ১৩টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিজেদের নামে প্যানেল দিলেও ইসলামী ছাত্রশিবির ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ নামে প্যানেলে নির্বাচন করছে। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ‘দ্রোহ পর্ষদ’ নামে প্যানেল দিয়ে চাকসুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এছাড়া কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলিয়ে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ভিপি পদে ২৪ এবং জিএস পদে ২২ জন ভোট করছেন।

