বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের যোগ্যতায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে এই পদে আসীন হতে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হবে না। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪’ রিভিউ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সভাপতি পদের জন্য ২০২৪ সালের আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
এর ফলে, গত বছরের ৩১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সেই গেজেট কার্যকর থাকছে না, যেখানে সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম স্নাতক (ডিগ্রি) পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সভাপতি পদে প্রার্থীর কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই দায়িত্ব পালনে বাধা থাকবে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে কমিটির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রভাব খর্ব করা হয়েছে। যেভাবে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান তিনজনের একটি নামের তালিকা তৈরি করবেন। সেই তালিকা ক্রমানুসারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিশনারের হাত ঘুরে শিক্ষা বোর্ডে যাবে। সবশেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সেই তালিকা থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবেন।
ম্যানেজিং কমিটির স্বচ্ছতা ও স্থানীয় অভিজ্ঞদের সুযোগ দিতেই এই প্রবিধানমালা রিভিউ করা হয়েছে। শীঘ্রই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই শীর্ষ পদের যোগ্যতা নিয়ে গত কয়েক বছরে বেশ টানাপোড়েন ও বারবার বদলেছে নিয়ম, দেখা গেছে – তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এইচএসসি পাসের শর্ত দিয়ে প্রবিধানমালা জারি করে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় অন্তর্বর্তী সরকার স্নাতক পাসকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। বর্তমান সরকার সেই শর্ত পুরোপুরি তুলে দিয়ে পুরোনো ‘যোগ্যতাহীন’ নিয়ম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলো।
শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত তুলে দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও সমাজসেবীদের স্কুল-কলেজের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার পথ আরও সহজ হবে।

