আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানের ধাঁচে ফিল্মি কায়দায় লেবাননের অভ্যন্তরে ঢুকে এক শীর্ষ মুসলিম নেতাকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। সোমবার ভোররাতে দক্ষিণ লেবাননের হাসবাইয়্যা জেলায় চালানো এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আল-জামাআ আল জ্যেষ্ঠ নেতা আতউই আতউইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইসরায়েলি কমান্ডো বাহিনীর একটি দল সীমান্ত পেরিয়ে লেবাননের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে। তারা হিব্বারিয়াহ গ্রামের সাবেক মেয়র এবং আল-জামাআ আল ইসলামিয়া’র নেতা আতউই আতউই’র বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত করে তাকে ধরে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায় সেনারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ‘টার্গেটেড অপারেশন’ চালানো হয়েছে। আইডিএফ-এর দাবি, আতউই আতউই একজন ‘জ্যেষ্ঠ সন্ত্রাসী’ এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলের ভূখণ্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই নেতা উত্তর ইসরায়েলে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের লেবানন সীমান্ত থেকে সরে যাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে: ইসরায়েল এখনো লেবাননের ৫টি কৌশলগত এলাকা দখল করে রেখেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন লেবানিজ নাগরিককে তাদের ভূখণ্ড থেকে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলের হাতে মোট ২০ জন লেবানিজ বন্দি রয়েছেন।
আল-জামাআ আল ইসলামিয়া এই ঘটনাকে সরাসরি ‘অনুপ্রবেশ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলটি দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সাথে মিলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছিল। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও এই অপহরণকে একটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি যখন লিতানি নদীর উত্তরে হিজবুল্লাহকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলছে, তখন ইসরায়েলের এই সরাসরি স্থল অভিযান ও অপহরণ পরিস্থিতিকে আবারও যুদ্ধের কিনারে ঠেলে দিতে পারে।

