আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব এবং রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক এবং সুনির্দিষ্ট যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রয়টার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন কার্যালয় বা ‘লিডারশিপ হাউস’ কমপ্লেক্সে এই হামলা চালানো হয়।
সকালবেলার সেই ‘সারপ্রাইজ’ অপারেশন
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে হামলাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পরিচালনা করা হয়েছে। খামেনির তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু ইসরাইলি গোয়েন্দারা জানতে পারে যে বৈঠকের সময় এগিয়ে সকালে আনা হয়েছে।
খামেনি যেন আত্মগোপনে যাওয়ার সুযোগ না পান, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সময় বদলে শনিবার সকালেই অভিযান শুরু করে ইসরাইলি ও মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের সেই সুরক্ষিত কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ইরানের ৪৬ বছরের শিয়া-ধর্মতান্ত্রিক শাসনের এক যুগান্তকারী মোড় ঘুরে গেল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে এই হামলায় শুধু খামেনি নন, বরং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে।
খামেনির কন্যা, জামাতা এবং নাতনিও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলি দাবি অনুযায়ী, খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী লারিজানিএই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেছেন এবং তিনি প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।
ইরানের পাল্টা আঘাত: ৬ দেশে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিঃ
খামেনির ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে একযোগে পাল্টা হামলা শুরু করেছে:
ইসরাইল, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত, জর্ডান এবং কুয়েত। ইরানের এই পাল্টা জবাবের ফলে পুরো অঞ্চলে এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা একে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
“উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত কঠোর, সিদ্ধান্তমূলক ও অনুশোচনাহীন শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত থামবে না।” — আইআরজিসি বিবৃতি
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বর্তমানে কালো ব্যানারসহ খামেনির আর্কাইভ ফুটেজ সম্প্রচার করছে। তার মৃত্যুকে পরাজয় হিসেবে নয়, বরং ‘অভিভাবকের শাহাদাত’ ও সার্বভৌমত্বের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। একদিকে লারিজানির মতো নেতারা “অত্যাচারীদের শিক্ষা দেওয়ার” অঙ্গীকার করছেন, অন্যদিকে বিশ্ব সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে যে, এই সংঘাত কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নেবে কি না।

