আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কোরীয় উপদ্বীপের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু হতেই ফুঁসে উঠেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন এবং দেশটির অন্যতম নীতিনির্ধারক কিম ইয়ো জং এক কড়া বিবৃতিতে ওয়াশিংটন ও সিউলকে ‘অকল্পনীয় ও ভয়াবহ পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ -তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং এই চরমপত্র দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বৃহৎ পরিসরের মহড়া কেবল উসকানি নয়, বরং এটি কোরীয় উপদ্বীপকে চূড়ান্ত অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করে বলেন, এই মহড়া উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। এর জবাবে পিয়ংইয়ং তার সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি করবে। শত্রুপক্ষ যেন উত্তর কোরিয়ার ধৈর্য ও সক্ষমতাকে খাটো করে না দেখে।
উত্তর কোরিয়া মুখপাত্র ও প্রভাবশালী নেত্রী কিম ইয়ো জং বলেন, “আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন পেশি শক্তির প্রদর্শন অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে। শত্রুপক্ষ যেন কখনোই আমাদের ধৈর্য, ইচ্ছা এবং সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা না করে।”
গত সোমবার (৯ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’। মিত্র দেশ দুটির দাবি, এটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়া দখলের ‘মহড়া’ হিসেবে গণ্য করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম ইয়ো জং-এর এই আক্রমণাত্মক ভাষা কেবল কথার লড়াই নয়। এর পেছনে বড় ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক শক্তির প্রদর্শন লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে তিনি ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, যেকোনো প্ররোচনার জবাব দেবে উত্তর কোরিয়া।

