উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান

0
উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ দিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে বিশেষ নিরাপত্তা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার যে দাবি করছে, তা সঠিক নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশের জন্য এই পথটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

আরাগচি বলেন, “অনেক জাহাজ মালিক ও দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি—যেমন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশ—তাদের জাহাজগুলোকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তায় পার করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চললেও ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১৫৫টি জাহাজ যাতায়াত করেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এই অনুমতি পাওয়ার অর্থ হলো জ্বালানি ও জরুরি পণ্য আমদানিতে অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যাওয়া।

ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রণালিটির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির এক নজরে চিত্র: বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। গত ২৫ দিনে চলাচলকারী ১৫৫টি জাহাজের মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী, যার অধিকাংশ পূর্বমুখী। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তাদের শত্রু দেশ বা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের এই বিশেষ অনুমতি বাংলাদেশের জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এলএনজি আমদানিতে বড় কোনো বাধা থাকবে না। পরিবহন খরচ কমায় অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে।

ইরান ও ইসরায়েলের এই সরাসরি যুদ্ধের প্রভাব যখন সারা বিশ্বের সুপারমার্কেট থেকে বিমান সংস্থা পর্যন্ত পড়ছে, তখন তেহরানের এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ঘোষণা বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য বড় একটি রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।