আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে এখন যুদ্ধের দামামা। ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক বার্তা বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আজ রাতেই সম্ভবত একটি প্রাচীন সভ্যতা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন: “আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি এটা চাই না, কিন্তু সম্ভবত সেটাই ঘটবে।”
তবে ধ্বংসের বার্তার পাশাপাশি তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে কিছুটা রহস্যও জিইয়ে রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আরও ‘বুদ্ধিমান’ ও ‘কম উগ্র’ মানুষ ক্ষমতায় আসে, তবে হয়তো বিপ্লবাত্মক ভালো কিছু ঘটতে পারে। ৪৭ বছরের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির শাসনের অবসান ঘটবে বলেও তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনের উদ্বেগকে তারা আমলে নিচ্ছে না।
ঠিক যখন যুদ্ধের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে আমেরিকার সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধকালীন বিমান বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ, যা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত।
এই বিমানটি মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং আকাশ থেকেই সরকার পরিচালনার জন্য তৈরি। নেব্রাস্কার অফুট এয়ার ফোর্স বেসের (যেখানে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড অবস্থিত) ওপর বিমানটিকে অন্তত ৬ বার চক্কর দিতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডুমসডে প্লেনের এই মহড়া বা উপস্থিতি নিছক কাকতালীয় নয়, বরং সম্ভাব্য বড় কোনো সংঘাতের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি সত্যিই আজ রাতে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যাবে—তা নিয়ে জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”
আজ রাতেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে ইরানের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভবত বিশ্বরাজনীতির নতুন মেরুকরণ।

