
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে এবার সরাসরি শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ এপ্রিল) ফক্স নিউজ ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে তার কোনো ‘আপত্তি নেই’। ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “তারা যদি দেখা করতে চায়, আমি প্রস্তুত। আমাদের অত্যন্ত দক্ষ একটি আলোচক দল আছে, তবে আমি নিজেও এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে কোনো সমস্যা দেখি না।” মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আগামীকাল বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এমন এক সন্ধিক্ষণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে প্রায় ২০ হাজার সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দুই দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে এবং আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন।
ট্রাম্প আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও ইরান এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকেই জানিয়েছেন, পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুজ পেজেশকিয়ান আলোচনার পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে একে ‘অবিশ্বাসের কূটনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো অবস্থাতেই কোনো আপস করা হবে না।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বেড়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের একটি কার্গো জাহাজ দখল। ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জ্বালানি রুট বন্ধের হুমকি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সব ঠিক থাকলে আজ সোমবার বা আগামীকালের মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অনড় অবস্থান এই চুক্তি স্বাক্ষরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতি এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের দিকে। বুধবারের ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্পের এই ‘সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা’ কি কেবল একটি কূটনৈতিক কৌশল, নাকি সত্যিই কোনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে—তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হবে।
