‘আসল শক্তি এখনো দেখায়নি ইরান’: ১০০০ ধরনের অস্ত্র উৎপাদন ও হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি

0
‘আসল শক্তি এখনো দেখায়নি ইরান’: ১০০০ ধরনের অস্ত্র উৎপাদন ও হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সংঘাতের পরও ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি বিশাল অংশ ‘অব্যবহৃত’ রেখেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ইরান জানিয়েছে, তারা বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে ১ হাজারেরও বেশি ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে, যা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষম।

আজ শনিবার ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদনে ইরানের এই সামরিক প্রস্তুতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার কোম্পানি এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত। উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে, কোনো একটি বা একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল থাকবে।

প্রতিবেদনে রেজা তালাই-নিক হরমুজ প্রণালীকে একটি ‘নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বজুড়ে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ তাদের এক অজেয় কৌশলগত শক্তি (Strategic Power) দিয়েছে। ইরান যেকোনো মুহূর্তে এই জলপথ ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিকে চরম অস্থিরতার মুখে ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় ইরান ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আনুমানিক ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ছিল অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ও স্টিল্থ প্রযুক্তির। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইসরাইলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ও ‘অ্যারো’ ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিল। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ওই হামলা ছিল কেবল শুরু; তাদের মূল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

ইরানের এই ঘোষণা প্রতিপক্ষের কাছে একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম রাউন্ডের যুদ্ধে ইরান তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেনি—এই বার্তা দিয়ে তারা বোঝাতে চাইছে যে, প্রয়োজন হলে আরও তীব্র ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকি বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও ভৌগোলিক অবস্থান তাদের গ্লোবাল প্লেয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।