নিস্তব্ধতা ভেঙে ফিরল প্রাণ: দুই মাস পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল এলএনজি ট্যাংকার ‘মুবারক’

0
নিস্তব্ধতা ভেঙে ফিরল প্রাণ: দুই মাস পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল এলএনজি ট্যাংকার ‘মুবারক’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতির মাঝে দীর্ঘ ৬০ দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাহী একটি বিশাল ট্যাংকার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই জাহাজটির সফল যাত্রা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং জায়ান্ট কেপলার (Kpler)-এর তথ্যমতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এডিএনওসি (ADNOC) পরিচালিত ‘মুবারক’ নামক ট্যাংকারটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে তার মিশন শুরু করে। তবে এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না:

গত ২ মার্চ পারস্য উপসাগরের দাস দ্বীপ থেকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে মাঝপথে থমকে দাঁড়ায় জাহাজটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়াতে দীর্ঘ এক মাস জাহাজটির ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ (AIS) বা অবস্থান জানানোর সিগন্যাল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে (ধারণা করা হয় ১৮-১৯ এপ্রিল) অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হরমুজ প্রণালি পার হয় এটি। সোমবার ভারতীয় উপকূলের কাছে পৌঁছালে পুনরায় এর সিগন্যাল রাডারে ধরা পড়ে।

জ্বালানি বিশ্লেষক চার্লস কসটেরিয়াস-এর মতে, মুবারক-এর এই সাহসী যাত্রা মূলত অন্যান্য জাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ‘গ্রিন সিগন্যাল’। মার্চের শুরুর দিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কায় এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর আগে ‘সোহার’ নামের একটি জাহাজ প্রণালিটি পার হলেও সেটি ছিল প্রায় খালি।

১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এই অঞ্চল থেকে যাত্রা করেছে। এসব জাহাজের একটি বড় অংশ যাত্রা শুরু করেছে ইরানের বিভিন্ন বন্দর থেকে। এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘ বিরতির পর ‘মুবারক’-এর মাধ্যমে প্রথম বড় চালানটি সফলভাবে বেরিয়ে এলো।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং এলএনজি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু প্রণালিটি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ‘মুবারক’ সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো মানে হলো—উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক এই নৌপথটি এখনো সচল রাখার প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দামে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

তথ্যসূত্র: জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।