পশ্চিম বঙ্গ-রাজনীতিতে ‘পদ্ম-বিপ্লব’: প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ 

0
পশ্চিম বঙ্গ-রাজনীতিতে ‘পদ্ম-বিপ্লব’: প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার (৯ মে ২০২৬) লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে ‘গেরুয়া বসন্তের’ আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত প্রথম এই বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতাদের এক সমন্বিত দল। আজ শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা। অগ্নিমিত্রা পাল দলের লড়াকু নেত্রী ও বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার। নিশীথ প্রামাণিক কেন্দ্রীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তরুণ মুখ। অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু মতুয়া ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্ত।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং বিজেপির জন্য এক বিশাল শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থান যেন ‘রোমান জেনারেলের’ ন্যায় এক হার না মানা প্রত্যাবর্তনের গল্প। এককালের ঘনিষ্ঠ মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি কার্যত বাংলার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটিয়েছেন।

২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবারের নির্বাচনে বিজেপি অভাবনীয় জয় পেয়েছে। এককভাবে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। দীর্ঘদিন বামপন্থীদের দুর্ভেদ্য দুর্গ এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের টানা তিন মেয়াদের শাসনের পর বিজেপির এই বিজয়কে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

শপথ নেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তির জয় নয়, এটি বাংলার সাড়ে দশ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জয়। আমরা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজ আজ থেকেই শুরু করছি।”

এই পালাবদলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যুগে পদার্পণ করল, যা নিয়ে সারা ভারতের রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ।