
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ত্রিমুখী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন তুঙ্গে পৌছেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অজুহাতে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে পেন্টাগন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন নৌবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরান একটি নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা থেকে ‘তাত্ক্ষণিক হুমকি’ তৈরি করছিল। সেই হুমকি নস্যাৎ করতেই এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ওত পেতে থাকা বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোনও মাঝআকাশে ভূপাতিত করা হয়। তবে সামরিক কৌশলগত কারণে ইরানের ঠিক কোন অঞ্চলে বা কোন স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর খোলসা করেনি।
তিন মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে যখন ওমানে কূটনৈতিক টেবিলে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই হামলার খবর সামনে এলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
হামলার খবর প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—চলতি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে।
এই প্রতিবেদনকে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন “হরমুজ প্রণালী কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না; এই আন্তর্জাতিক নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত (খোলা) থাকবে।”
এর আগে গত সোমবার (২৫ মে)-ও ইরানের অভ্যন্তরে তথাকথিত ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। সে সময় মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইনবাহী নৌযান ধ্বংস করা হয়।
পরপর এই মার্কিন হামলাকে দুই দেশের মধ্যে চলমান অত্যন্ত নাজুক ও সাময়িক ‘যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের শান্তি আলোচনা চলাকালীন ওয়াশিংটনের এই সামরিক আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও সুদূরপরাহত করে তুলতে পারে।
