গাজায় ৭০% নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর, বাড়ছে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র বিতর্ক

0
গাজায় ৭০% নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর, বাড়ছে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ অঞ্চল নিজেদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে অনুষ্ঠিত এক হাই-প্রোফাইল সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক ঘোষণা দেন। নেতানিয়াহুর এই নতুন পরিকল্পনা গাজা ভূখণ্ডে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখা এবং তা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই গাজায় ইসরায়েলের উপস্থিতি বিস্তৃত করা হচ্ছে। তিনি বলেন “ইতোমধ্যে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৫০ শতাংশ। এখন আমাদের পরবর্তী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো গাজার ৭০ শতাংশ এলাকায় পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।”

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের সময় সম্মেলনস্থলে উপস্থিত কট্টরপন্থীদের একটি অংশকে পুরো গাজা উপত্যকা ইসরায়েলের দখলে নেওয়ার পক্ষে জোরালো স্লোগান দিতে দেখা যায়, যা ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি ভূখণ্ডগত অভিপ্রায়কে আরও স্পষ্ট করে।

নেতানিয়াহু গাজায় বর্তমানে ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও আইডিএফ-এর নিজস্ব নথিতে ভিন্ন তথ্য মিলছে। গত এপ্রিলের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি মানচিত্রে দেখা গেছে, গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে সামরিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই নতুন নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে গাজার অবশিষ্ট সীমিত ও যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে থাকা প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে আরও চরম ও সংকুচিত অবস্থায় আশ্রয় নিতে হবে। এর ফলে উপত্যকাটিতে মানবিক বিপর্যয় এবং তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসাসঙ্কট আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

এদিকে নেতানিয়াহুর এই নতুন সামরিক বিস্তারকে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে হামাস। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যাওয়ার শর্ত ছিল। এই সীমারেখা অনুযায়ী, ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা।

গত মঙ্গলবার দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে হামাস অভিযোগ করেছে ইসরায়েল সমঝোতার তোয়াক্কা না করে সেই নির্ধারিত সীমারেখায় একতরফা পরিবর্তন আনছে। গাজার ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক শাসন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই তেল আবিবের মূল উদ্দেশ্য। ইসরায়েলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর বা স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার সব সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক মহল ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এই নতুন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গাজায় স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন ও পূর্ববর্তী চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।