আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দের মাঝেই দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অননুমোদিত ৪টি জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছে। একই সময়ে উপকূলীয় বুশেহর প্রদেশে একটি ‘শত্রু বিমান’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, যথাযথ সমন্বয় ও অনুমতি ছাড়া ৪টি বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
এ সময় ইরানের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও জাহাজগুলো তা উপেক্ষা করে। পরবর্তীতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এবং তাদের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে সতর্কতামূলক গুলি (Warning Shots) ছোড়ে।
অবশ্য মেহর নিউজ বা আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির পক্ষ থেকে জাহাজগুলোর নাম, পরিচয় কিংবা সেগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালির এই ঘটনার ঠিক সমসাময়িক সময়ে ইরানের উপকূলীয় বুশেহর প্রদেশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহর প্রদেশের জাম কাউন্টির গভর্নর মাসউদ তানগেস্তানি নিশ্চিত করেছেন যে, ওই অঞ্চলে একটি শত্রু বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
গভর্নর মাসউদ তানগেস্তানি বলেন “রাতে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনাটি একটি শত্রু বিমান সফলভাবে ধ্বংস করার সঙ্গে সম্পর্কিত। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত হানায় লক্ষ্যবস্তুটি ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মাত্র এক ঘণ্টার একটি বিশেষ অভিযানে ওই বিমানটিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তবে ধ্বংস হওয়া বিমানটি কোনো চালকবিহীন নজরদারি ড্রোন নাকি কোনো দেশের যুদ্ধবিমান, সে সম্পর্কে এখনও তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সাউদার্ন ওয়াটারে ইরানের এই সাম্প্রতিক সামরিক অ্যাকশন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো এই রুটে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় শক্তিগুলোর মধ্যকার সামরিক স্নায়ুযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেতে পারে।

