
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস, ব্যাপক দুর্নীতি এবং একাধিক শিক্ষার্থীর করুণ আত্মহত্যার প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন উত্তাল পরিস্থিতি। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) -র ডাকা ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লি কার্যত এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরো ভারতজুড়ে চরম রাজ রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।
বাদল অধিবেশন চলাকালে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যন্তর মন্তর থেকে মূল সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের পথ আটকাতে পুলিশ মধ্য দিল্লিতে কয়েক স্তরের উঁচু লোহার ব্যারিকেড স্থাপন করে। তবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

ভিড় সামলাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে, চালাবে টিয়ার গ্যাসের একাধিক সেল এবং জলকামান। লাঠিচার্জে বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংসদের ভেতরের অধিবেশন চলার সময় বাইরে এই তাণ্ডব ছড়ালে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হয় এবং নিরাপত্তার বেষ্টনী গড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়কে সংসদ ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিক্ষোভের তথ্য যেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, শাস্ত্রী ভবন ও রেল ভবনসহ আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় মোদী সরকার।
জনপথ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ মেট্রো স্টেশনে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন দিল্লির সাধারণ যাত্রীরা। সংসদ ভবন চত্বরে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৬৩ ধারা বলবৎ রাখা হয়েছে।
ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তায় ভুগে সারা দেশে ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই মূলত এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সমর্থনে টানা ২১ দিন ধরে অনশন চালাচ্ছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি সেখানে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে সরাসরি তোপ দেগে বলেন—‘এই সরকার সম্পূর্ণ জনবিরোধী, ন্যায্য দাবি না মানা পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে।’
রাজপথের এই উত্তাপের আঁচ পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও রাজপথে যখন সংঘর্ষ চলছে, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অপরদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবনে গিয়ে তিন দফা দাবির (শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ) লিখিত হলফনামা জমা দিয়েছেন। সরকারের আলোচনার প্রস্তাবে সিজেপি সহ-প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অনশন ভাঙতে রাজি হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
