ওসমান হাদি হত্যা মামলা: ডিবির চার্জশিটে বাদীর ‘নারাজি’, অধিকতর তদন্তের আবেদন

0
ওসমান হাদি হত্যা মামলা: ডিবির চার্জশিটে বাদীর ‘নারাজি’, অধিকতর তদন্তের আবেদন

আদালত প্রতিবেদকঃ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী আলোচিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। ডিবি পুলিশের দাখিলকৃত চার্জশিটের (অভিযোগপত্র) ওপর অনাস্থা জানিয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেছেন মামলার বাদী ও সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।

গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে বাদীপক্ষের দাবি, এই তদন্তে ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক বা প্রকৃত কুশীলবরা আড়ালে থেকে থাকতে পারে।

বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান: “পুলিশের দেওয়া চার্জশিটটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর বাদী মনে করছেন এটি অসম্পূর্ণ। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল অপরাধীদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে আমরা অধিকতর তদন্তের আবেদন জানিয়েছি।”

তদন্ত কর্মকর্তা মোট ১৭ জনকে আসামি করেছেন। এর মধ্যে ৬ জন পলাতক এবং ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আসামীরা হচ্ছে- ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ (প্রধান আসামি), তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি (সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা) আলমগীর হোসেন, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার ও জেসমিন আক্তার।

কারাগারে আটক ১১ জনের মধ্যে প্রধান আসামির বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া এবং বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি তার মাথায় ও কানের নিচে বিদ্ধ হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১৮ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ সংগঠক।

প্রথমে এটি হত্যাচেষ্টা মামলা হিসেবে দায়ের করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডকে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।