লাইট ইনডোর্স পদ্ধতি ব্যবহারে স্বুসাদু ড্রাগনের ফলন তিনগুণ বৃদ্ধি

0
লাইট ইনডোর্স পদ্ধতি ব্যবহারে স্বুসাদু ড্রাগনের ফলন তিনগুণ বৃদ্ধি

শার্শা প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় ড্রাগন চাষে এসেছে নতুন উদ্যোগ। অভিনব পদ্ধতিতে মনিরুজ্জামান মনির নামের এক সৌখিন কৃষক উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামে অসময়ে ড্রাগন ফলের চাষে নেমেছেন। তিনি লাইট ইনডোর্স পদ্ধতি ব্যবহারে স্বুসাদু ড্রাগনের ফলন তিনগুণ বৃদ্ধি করেছেন। তার চাষ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে।তিনি এখন ড্রাগন চাষে নতুন প্রযুক্তির হিরো হিসেবে পরিচিত।

এই ড্রাগন বাগানের মালিক মনিরুজ্জামান মনির জানান, তিনি ইউটিউব দেখে লাইট ইনডোর্স পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হন। এই পদ্ধতিতে মূলত রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হয়, রাতকে দিন বানিয়ে রাখার মতো অর্থাৎ রাতেও দিনের আলোর মতো আলোকিত করে রাখতে হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘন্টায় দুইদফা লাইটগুলো জ্বলে। শীতকালে দিন ছোট হয়ে আসে তাই দিনের আলো কম হয়। প্রথমে তিনি ৭ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেও এখন চাষ করছেন ২৪ বিঘা জমিতে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে চাষ হওয়া ড্রাগন ফলের বাগান বেড়ে ওঠে মুলত দিনের আলোয়।তাই এমন পদ্ধতিতে চাষ করলে রাতেও ড্রাগনের গাছ ও ফলের বেড়ে ওঠা সঠিক,স্বাভাবিক বা ন্যাচারাল থাকে।

এলাকাবাসী জানান, অমৌসুমে উৎপাদন বাড়াতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন চাষী মনির। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার করে রাতের এই কৃত্রিম আলোয় স্বাস্থ্যসম্মত ফলন তৈরী হচ্ছে। ড্রাগন বাগানটি সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয় এই বাগানটি। সারিবদ্ধ গাছে আলোকসজ্জা চোখধাঁধানো দৃশ্য তৈরি হয়। যা আমেরিকা,সুইডেন,লন্ডোন শহরের দৃশ্য দেখা মেলে বসতপুর গ্রামের মোহনায়। সেটা দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় করে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান,উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ফলটি উচ্চমূল্যে বিক্রয় হচ্ছে। ২৪ বিঘা জমিতে লাইটিং সিস্টেম করে চাষির ভাষ্যমতে খরচ হচ্ছে প্রতিমাসে আড়াই লক্ষ টাকা। যেটা ব‍্যায় করতে হিমশিম খাচ্ছে চাষি মনির। বিদ্যুতের খরচ কৃষির আওতায় আনতে পরলে এই পদ্ধতিতে চাষে অন্য চাষিরা উদ্বুদ্ধ হতো ।