পানি ধরে রেখে ফলনের স্বপ্ন কেশবপুরের এক কৃষকের উদ্ভাবনী উদ্যোগ

0
পানি ধরে রেখে ফলনের স্বপ্ন কেশবপুরের এক কৃষকের উদ্ভাবনী উদ্যোগ

কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর এখন ইরি ধান রোপণের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জমিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা। সেচের পানির সংকট, খরচ বৃদ্ধি, লোডশেডিং ও অনিয়মিত পানি সরবরাহ এই তিন সমস্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় কৃষকদের।

এমন বাস্তবতায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের কৃষক মোঃ ইউসুফ আলী তার নিজস্ব চিন্তা ও শ্রম দিয়ে দেখিয়েছেন একটি কার্যকর ও ব্যতিক্রমী পথ। ইরি ধান চাষে জমিতে দীর্ঘ সময় পানি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সে প্রয়োজন থেকেই মোঃ ইউসুফ আলী তার জমির চারপাশে সাড়ে চার ফুট চওড়া পলিথিন ব্যবহার করেছেন। জমির চারি দিক ঘিরে পলিথিন বসানো হয়েছে এমনভাবে এক অংশ মাটির ভেতরে পুঁতে রাখা হয়েছে এবং অন্য অংশ মাটির ওপর উঁচু করে রাখা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন জমির পানি পাশের জমিতে চলে যেতে পারছে না, অন্যদিকে জমির ভেতরে সারা মৌসুম ধরে পানি মজুদ থাকছে।

এই পদ্ধতিতে প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা লাভজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেচের পানির প্রয়োজন কমে যাচ্ছে, জমি বারবার শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই, ফলে ধানের চারা সহজেই বেড়ে উঠতে পারছে। কৃষক ইউসুফ আলীর ভাষায়, আগে দুই তিন দিন পরপর পানি দিতে হতো। এখন একবার পানি দিলে অনেক দিন থাকে। খরচও কমছে, ধানের গাছও ভালো আছে। স্থানীয় কৃষকদের অনেকেই ইতোমধ্যে তার এই উদ্যোগ দেখতে আসছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকে বলছেন, যদি এই পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করা যায়, তাহলে সেচনির্ভর এলাকায় ইরি ধান চাষ আরও সহজ ও লাভজনক হতে পারে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, ‘পানি সংরক্ষণ এখন কৃষির একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষক মোঃ ইউসুফ আলীর এই উদ্যোগ বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী। সঠিকভাবে পলিথিন বসালে পানি অপচয় কমে এবং জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় থাকে। এতে ধানের শিকড় ভালোভাবে গড়ে ওঠে এবং ফলনও বৃদ্ধি পায়’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সবসময় এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দিচ্ছি। তবে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে’।

বাংলাদেশের কৃষি আজও কৃষকের ঘামেই দাঁড়িয়ে আছে। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়া না লাগলে অনেক সময় কৃষক নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকেই সমস্যার সমাধান খুঁজে নেন। মোঃ ইউসুফ আলীর এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ। সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেও তিনি দেখিয়েছেন, চিন্তা ও পরিশ্রম থাকলে ফলন বাড়ানোর পথ তৈরি করা যায়। কৃষক আমাদের প্রাণ। তাদের পরিশ্রমেই আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তাই কৃষকের এমন উদ্যোগ শুধু প্রশংসারই নয়, বরং নীতিনির্ধারক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জন্যও একটি বার্তা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়ার। এতে উপকৃত হবেন হাজারো কৃষক। সমৃদ্ধ হবে দেশের কৃষি।