বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ। ২০১২ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ ১৪ বছর পর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-করাচি রুটে তাদের ডানা মেলছে।
পুনযাত্রার শুরুতেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই রুটটি। বিমান সূত্রে জানা গেছে, আজ রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া প্রথম ফ্লাইটের ১৬২টি আসনের সব টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন বুকড।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, যাত্রীদের এই ব্যাপক চাহিদা প্রমাণ করে যে দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা কতটা তীব্র ছিল।
আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ট্রানজিট নিয়ে করাচি যেতে দীর্ঘ সময় ও বাড়তি অর্থ ব্যয় হতো। এখন সরাসরি ফ্লাইটে মাত্র ৩ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ভাড়া: রাউন্ড ট্রিপে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার টাকা সাশ্রয়: ট্রানজিট ফ্লাইটের তুলনায় যাত্রীদের জনপ্রতি ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকাপর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবারএই রুটে নন-স্টপ ফ্লাইট চলবে।
ঢাকা থেকে যাত্রা: রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময়), অবতরণ: রাত ১১টা (করাচি সময়)। করাচি থেকে ফেরা: রাত ১২টা (স্থানীয় সময়), অবতরণ: ভোর ৪টা ২০ মিনিট (ঢাকা সময়)। এই রুটে বহরে থাকা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যোগাযোগ কেবল যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, সরাসরি ফ্লাইটের ফলে দুই দেশের মধ্যে কার্গো পরিবহনে গতি আসবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
বিমানের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, ট্রানজিট ঝামেলামুক্ত এবং সাশ্রয়ী ভাড়ায় এই যাতায়াত ব্যবস্থা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

