বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।
প্রকাশিত তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বর্তমান ও সাবেক উপদেষ্টাদের (মো. মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রমুখ) এবং তাঁদের স্ত্রী বা স্বামীদের ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের (৩০ জুন পর্যন্ত) সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
বিবরণী অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট সম্পদ: ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট সম্পদ: ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা।
আর্থিক সম্পদের বিন্যাস: তাঁর মোট সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা ও সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা। এছাড়া বিদেশে তাঁর ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকার সম্পদ রয়েছে।
সম্পদ বৃদ্ধির কারণ: সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, আমানতের সুদ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্যান্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হিসেবে নাম এসেছে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের। এরপরই রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সাবেক উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের সম্পদের হিসাবও প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজি ইউনূসের সম্পদ গত এক বছরে কমেছে। ২০২৫ সালের হিসাব: ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা। ২০২৪ সালের হিসাব: ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা।
অর্থাৎ, এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা। তাঁর প্রায় ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ঋণ বা দায় রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণেই ড. ইউনূস দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন এবং উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের অঙ্গীকার করেছিলেন।
“বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ে সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন এবং পর্যায়ক্রমে এটি সকল সরকারি কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।”
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতি বছর এই হিসাব জমা দেওয়া এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত করা হবে।

