বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সকাল সাড়ে ৭টা। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের (কমলাপুর) প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম এখন জনসমুদ্র। কারো হাতে ব্যাগ, কারো কাঁধে ঝোলা, আবার কারো চোখেমুখে প্রথমবার ভোট দেওয়ার উত্তেজনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে বাকি আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা নেই। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের ছাদে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কোচের ভেতরের আসন অনেক আগেই ফুরিয়ে যাওয়ায় নিরুপায় হয়ে মানুষ ছাদে চড়ে বসছেন। যাত্রীদের দাবি, কষ্ট হলেও এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়াটা এখন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী রাশেদুল হাসান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমি এবারই প্রথম ভোটার হয়েছি। নিজের ভোট নিজে দেব, এই আনন্দ অন্যরকম। তাই শত ভোগান্তি সত্ত্বে আগেভাগেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম।”
অন্যদিকে, রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী জুবায়ের রহমান বলেন, “অনেক বছর পর ভোট দেওয়ার পরিবেশ পেয়েছি। আমরা পরিবর্তন চাই। দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিতেই এই কষ্ট করে বাড়ি ফেরা। ভোট আমাদের কাছে এখন উৎসবের মতো।”
চাপ সামলাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম জানান: গত তিন দিন ধরে যাত্রীসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। আজ ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস এবং ২৬টি মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল করছে।
যাত্রীচাপের কারণে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে তা চালু রাখা হয়েছে। স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক স্তরে সাজানো হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগেই যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিং এবং টিকিট যাচাই করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

