বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাঙালির আবেগের মহিমান্বিত দিন ‘অমর একুশে’। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন সালাম-বরকত-রফিকরা। সেই মহান ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেমেছে মানুষের ঢল। রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের করুণ সুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতির পর পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়কসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তাঁরা সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান এবং সেখানে শায়িত ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।
অমর একুশে উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় এক উৎসবমুখর অথচ ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করছে।
চারুকলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিপুণ তুলির আঁচড়ে শহীদ মিনার এলাকা ও চারপাশের সড়কগুলো বর্ণিল আলপনায় সেজেছে। দেখে মনে হচ্ছে, শহীদ মিনার যেন নতুন এক নান্দনিক রূপ ধারণ করেছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হয়েছে একাধিক কন্ট্রোল রুম।
রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এলাকা ত্যাগ করার পরপরই শহীদ মিনার সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মধ্যরাত থেকেই হাজারো মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। হাতে ফুল এবং খালি পায়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গুনগুন করে গাইতে গাইতে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এই জনস্রোত আরও বৃদ্ধি পেয়ে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

