বিশেষ প্রতিবেদকঃ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পর এখন সবার নজর জাতীয় সংসদের দিকে। আগামী ১২ মার্চের মধ্যে সংসদ অধিবেশনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—কে বসছেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মর্যাদাপূর্ণ আসনে?
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি তাদের শাসনামলে (পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদ) আইনজীবীদের মধ্য থেকে স্পিকার নিয়োগের যে ধারা বজায় রেখেছিল, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকার জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
স্পিকার পদের দৌড়ে বর্তমানে চারজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং আদালত অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আইনি লড়াইয়ে তার ভূমিকা তাকে দলের ভেতর অত্যন্ত বিশ্বস্ত করে তুলেছে। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বর্তমান সভাপতি। জয়ের পর তিনি বলেছেন, “এই বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার বিজয়।”
নোয়াখালী-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই প্রবীণ আইনজীবী বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি। তিনিও স্পিকার পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। তার বর্ণাঢ্য আইনি ক্যারিয়ার এবং রাজপথের সক্রিয়তা তাকে আলোচনার শীর্ষে রেখেছে।
নরসিংদীর কৃতি সন্তান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য একজন শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের পুত্র ড. মঈন খান এর আগেও মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। তার মার্জিত আচরণ ও সংসদীয় জ্ঞান স্পিকার পদের জন্য তাকে যোগ্য করে তুলেছে।
ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক নবম সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দক্ষতা দেখিয়েছেন। দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কারণে তাকে নিয়েও চলছে জোর গুঞ্জণ।
গণভোটের রায়ে দেশের শাসনব্যবস্থায় আসছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন। সংসদ হতে যাচ্ছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এবারের সংসদের অন্যতম বিশেষত্ব হলো—বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত।
এবার সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। ফলে ডেপুটি স্পিকার পদটি এই জোটের হাতেই যাচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় আছেন: ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান, মীর কাসেম আলীর পুত্র। তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।
১২ মার্চের অধিবেশনেই চূড়ান্ত হবে কার মাথায় উঠছে স্পিকারের মুকুট। একদিকে যেমন আইনজীবীদের প্রাধান্য দেওয়ার পুরোনো ঐতিহ্য বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে বর্ষীয়ান রাজনীতিকদের অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখার পথও খোলা রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা করছে দেশবাসী।

