বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আজ ২৬ মার্চ। ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের এই দিনে যে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই আর ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর তা পূর্ণতা পায়। জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজ কৃতজ্ঞ জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেই সব বীর সন্তানদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই লাল-সবুজের পতাকা।
এবারের স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর দেশবাসী আজ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও উন্মুক্ত পরিবেশে দিবসটি পালন করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিগত দেড় দশকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার যে অপচেষ্টা চলেছিল, তার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রকৃত বীরদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
দিবসের শুরুতে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
বাণীতে দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে একটি ইনসাফভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। তিনি জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতির ধারাকে বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করছেন। অনুষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দিবসটি স্মরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দলের পাশাপাশি পারফর্ম করবে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকায় সাজানো হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একইভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিবসটি।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর মানুষের মধ্যে যে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা প্রমাণ করে—দেশের মানুষ আবার তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ফিরে পেয়েছে।

