বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি গ্রামকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল কেন্দ্রে পরিণত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস, সততা ও নিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশার কথা জানান। বুধবার (২০ মে) উদযাপিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬’ উপলক্ষে তিনি এ শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের যেকোনো সংকট ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আনসার বাহিনীর সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশজুড়ে অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অসামান্য ও প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে আমি বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।”
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশ এখন নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক যাত্রায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক দর্শনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার সেই গর্বিত উচ্চারণ—‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ধারণায় এই বাহিনী গড়ে উঠেছে। দেশের একদম প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এই বাহিনীর যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও সেতুবন্ধন রয়েছে, তা গ্রাম ও শহরের সামাজিক কাঠামোকে সুরক্ষিত করতে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বহুমুখী সেবা কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপি এখন সরকারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে আনসার-ভিডিপির বিশাল স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং কৃষি অর্থনীতির বিকাশে এই বাহিনীর সক্ষমতাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এ ছাড়া খাল খনন, দুর্যোগপ্রবণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ পরিকল্পনা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো জনকল্যাণমূলক কাজেও আনসার-ভিডিপি অনন্য অবদান রাখতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা: দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র শিল্প-কারখানা, হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় বর্তমানে ৫২ হাজারেরও বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দিনরাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তারুণ্যের কর্মসংস্থান: বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, ‘তারুণ্যই শক্তির উৎস’। যুবসমাজকে কেবল জনশক্তি হিসেবে নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপির সুনির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের এই নতুন মডেলে দেশের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে আনসার-ভিডিপি আগামী দিনে আরও বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

