গ্যালারির তালি, মাঠের লড়াই আর ক্ষুদেদের চোখে স্বপ্ন—আর্মি স্টেডিয়ামে অনন্য বিকেলের রূপকার তারেক রহমান; মিডিয়াকে বললেন, “আজকের লিড নিউজ হোক এই শিশুই”
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ “আজকে তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছ, তোমরাই তো আগামী দিনের বাংলাদেশ! তোমাদের ভেতর থেকেই জন্ম নেবে বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার, কালজয়ী স্থপতি, আর প্রাণ বাঁচানো ডাক্তার।” বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে হাজার হাজার শিশুর সমবেত করতালির জবাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এভাবেই আগামীর পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ জুলাই) আলো ঝলমলে এক অপরাহ্ণে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ শিশু-কিশোর ক্রীড়া মহাযজ্ঞ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর্দা নামল। আর সেই মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে এক অনন্য ‘দেশ গড়ার নাগরিক প্রতিশ্রুতিতে’ বাঁধলেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিতে উঠলেন, পুরো স্টেডিয়াম তখন কানায় কানায় পূর্ণ। বক্তব্যের একপর্যায়ে শিশুদের দিকে তাকিয়ে তিনি প্রশ্ন ছোড়েন, “দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে আমার সাথে কে কে আছ? শুনতে পাচ্ছি না, হাত তুলে দেখাও!”
মুহূর্তের মধ্যে পুরো আর্মি স্টেডিয়াম রূপ নেয় এক হাত উঁচিয়ে ধরা খুদে দেশপ্রেমিকদের মহাসমুদ্রে। শিশুদের গগনবিদারি চিৎকারে কেঁপে ওঠে চারপাশ। প্রধানমন্ত্রীও হেসে বিমোহিত কণ্ঠে ধন্যবাদ জানান তাঁর এই তরুণ বাহিনীকে।
গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের প্রতি এক অনন্য ও অভূতপূর্ব অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন “পত্রিকায় প্রতিদিন নানা বিষয় গুরুত্ব পায়। কিন্তু আমার বিশেষ আর্জি—আজ যারা এই মাঠে ঘাম ঝরিয়ে খেলল, যারা ট্রফি জিতল, তারাই বাংলাদেশের আসল ‘ফিউচার’। আগামীকাল আপনাদের পত্রিকা ও টিভির সবচেয়ে বড় খবর বা ‘লিড নিউজ’ যেন এই ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সাফল্যগাথা দিয়ে সাজানো হয়।”
শুধু পড়াশোনা বা খেলাই নয়, শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তিনটি মানবিক দায়িত্ব তুলে দেন তাদের কাঁধে: রাস্তাঘাটে প্লাস্টিকের বোতল বা বর্জ্য ফেলা রোধ করতে হবে। অন্যকে বারণ করতে হবে, প্রয়োজনে নিজের হাতে তা তুলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। চারপাশের পরিবেশ ও অক্সিজেন তাজা রাখতে প্রতি বছর নিজের বাসা বা স্কুলের পাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। অবলা বিড়াল, কুকুর, কিংবা গবাদিপশুর প্রতি চরম মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রকৃতির কোনো সৃষ্টির ক্ষতি করা যাবে না, ওদের যত্ন নিতে হবে।”
বিকেল ঠিক ৪টায় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করতেই নতুন কুঁড়ি থিম সং-এর সাথে লাল-সবুজ পোশাকে হাজারো শিশুর নৃত্য পরিবেশন এক বর্ণিল পরিবেশের সৃষ্টি করে।
প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে যাওয়ার আগে সরাসরি মাঠে নেমে খুদে অ্যাথলেটদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এরপর মাঠের পাশে বসে বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনাল ও ১০০ মিটার স্প্রিন্ট উপভোগ করেন।
বালিকা ফুটবল: রাজশাহীকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে একচেটিয়া আধিপত্যের সাথে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিজয়ী দল।
বালক ফুটবল: টানটান উত্তেজনার ফাইনালে শক্তিশালী ময়মনসিংকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে সিলেট অঞ্চল।

খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিতদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও আর্থিক সম্মাননার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে এবং সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের স্বাগত বক্তব্যে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ও মীর হেলাল, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

