বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য জটিলতায় নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদের প্রার্থীরা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হন। সেখান থেকে শ্লোগানে শ্লোগানে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে এসে তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা অতি দ্রুত নিয়োগপত্র হস্তান্তরের দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পজিটিভ না আসা বা বিলম্বিত হওয়ার অজুহাতে দেড় হাজারেরও বেশি চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ ও ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে এসে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া এভাবে শতাধিক প্রার্থীকে বাদ দেওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও মানসিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীরা তাঁদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত বাকি সকল প্রার্থীর নিয়োগপত্র অবিলম্বে ইস্যু করতে হবে। বাদ পড়ার যদি কোনো যৌক্তিক বা প্রশাসনিক কারণ থাকে, তা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ভেরিফিকেশন জটিলতার সমাধান করে ১ অক্টোবরের যোগদানের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।
নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেও দীর্ঘদিন ভেরিফিকেশন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের পর সম্প্রতি নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়। কর্তৃপক্ষের মতে, কেবল ইতিবাচক পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাওয়া প্রার্থীদেরই নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে, বাকিদের বিষয়টি পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে।

