প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর: সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সূচনা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর: সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সূচনা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

ফেনী প্রতিনিধিঃ নিজ এলাকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ফেনী সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রথমবার নিজের নানা বাড়ি ফুলগাজী ও পরশুরামে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন এবং সামাজিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।

ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সারা দেশে কিছু কিছু দল অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই দেশ যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সব সময় সোচ্চার থাকতে হবে।”

রাজনৈতিক চক্রান্তের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ” তথাকথিত ‘এক দফা’ বা বিশৃঙ্খলার অজুহাত দেখিয়ে দেশকে পেছনের দিকে টেনে নেওয়া যাবে না। যারা বিভ্রান্তিকর ‘এক দফা’র কথা বলছে এবং ৫ আগস্টের পর যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের সবার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

বহু বছর পর ফেনীর মাটিতে নিজ পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশে উপস্থিত হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। ফুলগাজীবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “বহু বছর পর আজ এখানে আপনাদের মাঝে এসেছি। নানা বাড়ির লোকজন হিসেবে এখন আপনারাই আমাকে দেখে রাখবেন। মা (বেগম খালেদা জিয়া) যেহেতু আজ বেঁচে নেই, তাই আপনারা অভিভাবক হিসেবে আমার পাশে থাকবেন।”

সফরের শুরুতেই পরশুরামের খেয়াঘাট সংলগ্ন মুহুরী নদীর তীরে ১,৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন ও সংস্কারকৃত ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ৬৭.৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন এবং ৮৩.৫০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হবে, যা স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

ফুলগাজীর জনসভায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিশেষ সম্মাননা ভাতা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক অসচ্ছল পরিবারের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে নারী প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

কৃষক কার্ড: ফেনী জেলার হাজারও কৃষকের মাঝে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়।

সম্মানী ভাতা: স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক সরকারি সম্মানীর চেক প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দেবো, আজ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেই কথা রেখেছি। জনগণের অর্থ সরাসরি সাধারণ অসচ্ছল মানুষের হাতে তুলে দেওয়াই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।”

এর আগে সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর ছাদে স্থাপিত নতুন রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমেরও শুভ সূচনা ঘোষণা করেন।

উক্ত মহাসমাবেশ ও সরকারি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, পানি সম্পদ মন্ত্রী শাহিদুজ্জামান চৌধুরী এ্যানিসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।