‘৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষা করেছে ২৪-এর ছাত্র আন্দোলন: পলোগ্রাউন্ডে তারেক রহমান’

0
‘৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষা করেছে ২৪-এর ছাত্র আন্দোলন: পলোগ্রাউন্ডে তারেক রহমান’

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আর সেই অর্জিত স্বাধীনতাকে নতুন করে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আমূল পরিবর্তন চেয়েছে—সেটি শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা লুণ্ঠিত রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারই হোক না কেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান সভামঞ্চে উপস্থিত হলে মুহুর্মুহু স্লোগান ও করতালিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

 

দোষারোপের রাজনীতি বর্জনের ডাকঃ বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে দেশের মানুষের কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানুষ এখন প্রকৃত রাজনৈতিক অধিকার ও কার্যকর পরিবর্তন চায়।” চট্টগ্রামের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আবেগের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এ চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।”

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিকল্পনাঃ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা সরকার গঠনে সমর্থ হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাবো। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় গড়ে তোলা হবে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।”

কৃষক ও নারীদের জন্য নতুন উদ্যোগঃ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আমরা কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেব, যার মাধ্যমে তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সঃ তারেক রহমান স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামকে আমরা প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবো এবং খাল খননসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেব।”

গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করার পর আজ চট্টগ্রামে এই বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরল। সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।